I am currently running an Online Shop for selling Electronics Products in Bangladesh. Search for Shohan's Lab anywhere on Google or Facebook to find my shop.
URL: limitless13579.web44.net/item_available
Thursday, January 18, 2018
Shohan's Lab - Online shop for electronics products
Tuesday, January 16, 2018
Ovishoptera (বিবিধ অধ্যায় পূর্ণ) -1
অভিশপ্তেরা- (বিবিধ অধ্যায়-১)-নিরুদ্দেশ!!!!
(8-January-2018 12:00AM)
রাত হয়ত ১ টা বাজে। প্যারাক্যাফেইন খেয়ে সুহান একটু ঘুমানোর চেষ্টা করছে। শরীর ভয়ানক গরম। কপালে হাত দেওয়া যাচ্ছে না।
সুহান জানে সে ঘুমাতে পারবে না। ক্যাফেইন তাকে ঘুমাতে দেবে না। তাকে চিন্তাগুলো করতে জোর করবে। সন্ধ্যা থেকে নিরুদ্দেশ হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে সে। এই রুম থেকে অই রুম। তার মেসের কাজের বুয়া বেশ ভয় পেয়ে যান। তিনি ভাবেন," সুহান কি জ্বিন গ্রস্থ?" তাকে ডেকে কথা বলেন, এটা ওটা জিজ্ঞেস করেন। কথা বলার পর বুঝতে পারেন কিছু একটা চিন্তা করছে সুহান ভাই। তাই আর না ঘাটিয়ে কাজে ফিরে গেলেন।
এদিকে মোটামুটি এই ঘর ওই ঘর ঘুরতে ঘুরতে প্রায় দুই ঘন্টা পর সুহান খেয়াল করল, তার গা গরম হয়ে গেছে। তখনও ১০ টা বাজে নি। শীত লাগছে। খেয়াল করল বাইরের রুমের একটা জানালা খোলা ছিল। বাতাস ঢুকছে। এখন মাথাও ব্যাথা করছে। আমিরুল ভাই সেদিন রাত্রে আসতে দেরী করল। শিহাব ভাই আসল আরও পরে। তখনও সুহান বাইরের রুমে ঘুরছেই। শিহাব ভাই এসে কলিংবেল দিতেই দরজা খুলে দিল সুহান। শিহাব ভাই তো অবাক," কি ব্যাপার সুহান ভাই। আপনি অই রুম থেকে এত তাড়াতাড়ি এসে পড়লেন? সুহান বলল,"না ভাই এই রুমেই ঘুরতে ছিলাম।"
এদিকে চিন্তায় মাথা গরম হয়ে যাচ্ছে। সন্ধ্যায় সুহানের মা ফোন দিয়েছিল। দুইবার ফোন দিয়েছিল। প্রথমবার ফোন দিয়েই টের পেয়েছিলেন কিছু একটা ঝামেলা আছে। আবার ফোন দিলেন জিজ্ঞেস করলেন কোন সমস্যা হয়েছে কিনা। এই কথার মধ্যে সুহান বুঝতে পারলো দিন যত পার হয় সন্তানের সাথে সাথে সন্তানের প্রতি মাতৃত্বও বড় হতে থাকে।৫ বছর আগে যা ছিল এখন আর তা নেই। ছোট বেলায় মন খারাপ করলে জিজ্ঞেস করত পেটে কোন সমস্যা আছে কিনা, কিছুদিন পর বলত কেও কিছু বলেছে কিনা। সন্ধ্যায় ফোন দিয়ে চমকে দিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করল,কাউকে পছন্দ হয়েছে কিনা? রেজাল্ট খারাপ হয়েছে কিনা?
কি অদ্ভূত। একেবারে জায়গামতো কোয়েশ্চেন করে ফেলেছে। কিন্তু তারপরেও সুহান কনফিউজড। আসলেই কি কাওকে পছন্দ হয়েছে নাকি অন্য কিছু। সব মিলিয়ে সুহান তার মন খারাপের ৩ টা কারন বের করল।
রাত ১ টা বাজতে তখন আর ঘন্টা খানেক মত বাকি।একবার মনে হল মাথা ঘুরে পড়েই যায় কিনা। কোনমতে সামলে নিয়ে ১ টায় আর সহ্য করতে না পেরে খেয়েই ফেলল ওষুধ। ওষুধ খাওয়ার পর মনে হল কাজটা ঠিক করে নি সে। আর মাত্র ১৫ মিনিট পরেই তার ঘুম উড়ে যাবে। শুরু হয়ে যাবে তার অটোনমাস এনালাইজিং প্রোসেস। এর চাইতে এলাট্রোল টা খেত।। ঘুম হত জব্বরদস্ত একটা। কিন্তু পরের দিন সকালে তাকে একটা ভুল বোঝাবুঝির অবসান করতে হবে। ১১ টায় ক্লাস। ১০ টায় চলে যেতে হবে। তাই বাধ্য হয়েই একটা প্যারাক্যাফেইন ই খেয়ে ফেলল।
এরপর শুরু হল সেই অস্থিরতা। কাল কি বলবে কাল কি বলবে? ঠিক একই ভাবে শুরু হল আরেক চিন্তা। সেই ৩ টা কারন। প্রথম টা এমন কিছু না। বাকী দুইটা সিরিয়াস, ২য় টা হল অন্যের অবহেলা জনিত কারন। তাকে জোর করে অবহেলা করা হচ্ছে। ৩য় টা আরও ভয়ানক। সে একটা মেয়েকে নিয়ে চিন্তা করছে। গত কয়েকদিন হল সে এমন কিছু কথা বলে ফেলেছে যেগুলা বেসিক্যালি মেয়েদের প্রোপোজ করার জন্য বলা হয়। যদিও সে মজা করে বলত।কারন....... কারণ টা বেশ জটিল। কিন্তু রিপ্লাই গুলো তার কাছে ক্রমেই সিরিয়াস হয়ে যাচ্ছিল। তাই তাকে বোঝানো দরকার তার প্রতি তার অনূভূতি টা কি।
ততক্ষণে সে বিছানা ছেড়ে আবার বাইরের রুমে চলে গেছে সে। এবারে সে গিয়েই জানালা টা বন্ধ করে দিল। তারপর শুরু হল চিন্তা। কিভাবে বুঝাবে আসলে কাহিনী কি হয়েছিল!
অনেক্ষন চিন্তা করার পর সে ভাবল কাজ যা করার সে জ্বরের মাথায় সন্ধ্যায় করেই ফেলেছে। মন খারাপ থাকলে যা করে সে। লেখে। অনেক লেখে। যতক্ষন পর্যন্ত মন না ভাল হয় ততক্ষন। এই লেখাটা সে দেবে তাকে। কিন্তু এখানেও একটা ঝামেলা আছে। সে এই লেখাটা পড়তে চাইবে না। কিন্তু তারপরেও এই ভুল বোঝাবুঝির একটা অবসান হতে হবেই। লেখাটা বের করে ভাবছে সুহান কোনটুকু দেবে। ঠিক করে ফেলল কোনটুকু দেবে।এর মাঝে একবার আমিরুল ভাই টয়লেট করতে উঠে দেখে সুহান কিছু একটা হাত নাড়িয়ে হিসাব করছে। বেশ ভয় পেয়ে একবার ভাবল জিজ্ঞেস করে দেখে সমস্যা কি। তারপর ভাবল পরের দিন বলবে।
এরপর ঘুমানোর চেষ্টা করল সুহান। খালিপায়ে ঘুরে ঘুরে মেঝের ঠান্ডা গায়ে মেখে আবার এক দফা ঠান্ডা বাঁধিয়ে সে ঘুমাতে গেল। তখন ৪ টা বাজে। আনুমানিক ৫ টায় ঘুমিয়ে গেল।
(1-January-2018)
ফেসবুকে একটি পোস্টের জের ধরেই মেয়েটা সুহানকে জিজ্ঞেস করে সাইফিয়ার পরে আর কাওকে তার পছন্দ হয়েছিল কিনা? প্রেমে পড়েছে কিনা? পছন্দ?
হ্যাঁ সুহানের পছন্দ হয়। যদিও পোস্ট টা কাওকে পছন্দ করার ব্যাপারে নয়।সম্পূর্ণ অন্য একটা কারনে সে লিখেছিল সেটা। তারপরেও পছন্দ হয় একজনকে। জিজ্ঞেস যখন করেই ফেলেছে তাহলে বলা যায়। তো সে বলল,"তোমাকেই পছন্দ হয়।"
এইটা শুনে মেয়েটার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ল। প্রথমে ভাবল সুহান এইগুলা কি বলছে? এইভাবে মেয়েদের পিছে লুচ্চামি করার মানে কি?
তবে খুব বেশি সিরিয়াস না হয়ে সুহানকে সে বলল,"মজা করা বাদ দাও।"
সুহানও সরল সোজা বলে দিল,"নাহ অবশ্যই না। আমার তোমাকে অনেক ভালো লাগে।"
এখান থেকে যে একটা বিশাল জটিলতা শুরু হবে এটা সুহান জানত না। কিছু কিছু মেয়েদের ভিতরে একটা ব্যাপার কাজ করে। হয়ত ভালো লাগে বললেই এটাকে তারা প্রেম ভালবাসা পর্যায়ে নিয়ে যায়।ভাবতে থাকে এরপর হয়ত যন্ত্রণা দেবে।অথবা আরও অনেক কিছু। এখানেও ঘটনা সেরকম হয়ে গেল।ঠিক এখান থেকে দুইজনের কাহিনী দুইদিকে চলে যায়।
(3-January-2018)
সুহান মোটামুটি ভাল ভাবেই ইয়ার্কি মারছে মেয়েটার সাথে। এবারে সুহানের কথার ঠেলায় একরকম ভয় পেয়েই মেয়েটা বলে ফেলে তার বয়ফ্রেন্ড আছে। এবার সুহান আরও মজা পায়। কি বলে এই মেয়ে। এই মেয়ের আবার বয়ফ্রেন্ড আছে। এর তো সারাদিনের রুটিনেই কিছু মেলে না। খুব সম্ভব সাইফিয়ার মত। সাইফিয়ারই সাইক-সিস্টার কিনা। হতে পারে সুহানকে ডিস্ট্রাক্ট করার জন্য সে মিথ্যার আশ্রয় নিচ্ছে। সুহানের অটোনমাস মাইন্ড আবার কাজ শুরু করল। এই মেয়ের যদি বয়ফ্রেন্ড থাকে, তাহলে সুহানের ১০ টা গার্ল্ফ্রেন্ড আছে, তাও আবার দশ দেশের। কিভাবে এই হিসাব মেলানো যায়?
অনলাইনে একদিন মেয়েটাকে পেয়ে বয়ফ্রেন্ড এর কথা জিজ্ঞেস করল। বলল না। এবারে জিজ্ঞেস করল বয়স কত। যদিও বয়স জানাটা উদ্দ্যেশ্য না। সে দেখতে চাচ্ছিল রিপ্লাই টা সে কতক্ষন পরে দেয়। রিপ্লাই দিতে যত দেরী হবে, কথাটাও তত মিথ্যা হবে। বলাবাহুল্য রিপ্লাই দিতে সে দেরী করেছিল। এইটা একটা অনুসিদ্ধান্ত। সুহানের মাথা এখন কাজ করছে শুধু এই থিওরি টা প্রুফ করার জন্য যে মেয়েটার কোন বয়ফ্রেন্ড নেই। মেয়ের সাথে প্রেম ভালবাসা সেসব চিন্তা তো এখনও বহুদূরে।
(7-January-2018)
আজ ভয়ানক ঠান্ডা পড়েছে। ঢাকায় সাধারনতঃ এমন ঠান্ডা পড়ে না। তাই মেয়েটাও শীতের কাপড় পরে আসে নি। শেষ ক্লাস টা করে মেয়েটা যখন হিহি করে কান চেপে ধরে কাঁপতে ছিল সুহানের কাছে ব্যাপারটা খারাপ লাগল। বাসায় গিয়ে মেসেঞ্জার খুলে মেয়েটাকে মেসেজ দিল,"কাল থেকে শীতের একটা মোটা জামা পরে আসবা।” কথাপ্রসঙ্গে সুহান এবার জিজ্ঞেস করল, "আচ্ছা, তুমি কি ভাবছ? আমি কেন তোমাকে এইগুলা জিজ্ঞেস করছি? আমি কি তোমার প্রেমে পড়েছি? তুমি কি এরকম কিছু ভাবছ যে আমার এইরকম লুচ্চামী করার মানে কি?(লুচ্চামী কথাটা বিব্রতকর হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু হাত বাঁধা কিচ্ছু করার নেই)"
মেয়েটা বলল,"সাইফিয়ার কাছে রিজেক্ট খাওয়ার পর তুমি ব্যাপারটা ভুলে থাকতে চাইছ।তাই এগুলো করছ। এরকম কিছু?"
সুহান এতদিন পর্যন্ত একটা জিনিস ভালভাবে শিখেছে, কোন কিছু ভুলে থাকার চাইতে ফ্যাক্ট টা এক্সেপ্ট করে নিতে হয়। ভুলে থাকার জন্যেও সেটাকে কয়েকবার মনে করার দরকার পড়ে। এটা শুধুই নিজের ইগো পঁচানো ছাড়া কিছুই না। তাই রিপ্লাই দিল,"মোটেও না।" এরপর আবার সেই বয়ফ্রেন্ড এর ক্যাঁচাল। আজকে সে মেয়েটার মাথায় ঢুকেই ছাড়বে। কিন্তু শেষমেষ মেয়েটা রেগে গিয়ে কয়েকটা কথা বলে সেদিনের মত গায়েব হয়ে গেল মেসেঞ্জার থেকে।
(8-January-2018 8:00AM)
সকালে ঘুম থেকে উঠে সুহান এর মাথায় বাজ পড়ল। সে গত রাত পুরোটা সামান্য একটা ব্যাপার নিয়ে শেষ করে ফেলেছে। কি বিপদ! মাথাটা হালকা লাগছে এখন। তাই বুঝতে পারল ব্যাপারটা।তখন বাজে সকাল ৯ টা ৩০। পায়জামা টা পরেই শীতের মধ্যে বের হয়ে গেছে। বাজার করতে হবে। কোনমতে শীতের মধ্যে কয়েকটা জিনিস নিয়ে এসে গায়েব হয়ে গেল ক্যাম্পাসে। এই ক্লাস অই ক্লাস ঢু দিয়ে খুঁজছে সে মেয়েটাকে। মেয়েটাকে যন্ত্রণা দিয়ে ফেলেছে অনেক। একটু দেখা করে অন্তত বলা উচিৎ কিছু একটা। পেয়ে গেল তাকে।ক্লাসে ছিল। কিছু বলল না। ক্লাস টা শেষ হওয়া দরকার। তারপর দেড় ঘন্টার ব্রেক।
ক্লাস শেষ করে উঠে মেয়েটার পিছে পিছে গেল। মেয়েটা একটা নীল রং এর শীতের কাপড় পরে এসেছিল। সাথে ওড়না চাপিয়ে। দেখতে ভালই লাগছিল। সাথে রহিম ছিল। এজ ইউজুয়াল এরা দুইজন এক সাথেই থাকে। ভাল বন্ধু তারা। ৩ জন এক সাথে বাইরে গেল। ঠান্ডা পড়েছে সেই। চা খাওয়ার জন্য গেল সবাই। যদিও সুহান চা খায় না তারপরেও সাথে থাকা লাগবে। চা খেতে খেতে রহিমের দিকে তাকিয়ে কয়েকটা কথা ভাবছে। এই ছেলের কিছু একটা কাহিনী আছে। রসবোধ একেবারেই নেই। তবে অনেক ভাল একটা ছেলে।
ক্যাম্পাসে গিয়ে রহিম বুঝতে পারে সুহান মেয়েটাকে কিছু একটা বলার চেষ্টা করছে। তাই বলল, "সুহান তোমরা যাও, আমি একটু বাইরে যাব।" এদিকে সুহান রহিম কে ছাড়বে না কারন সুহান জানে রহিম সাথে না থাকলে ও মেয়েটার সাথে ৫ মিনিটও কথা বলতে পারবে না।
যাই হোক কোনরকম জোর করেই ধরে নিয়ে যাওয়া হল। এক জায়গায় বসল সবাই। কথা শুরু করল সুহান। যদিও মেয়েটা সামনেই বসে আছে তারপরেও রহিম কে সে আরেকটা মেয়ে মনে করে নিয়ে কথাগুলো বলছে। আশেপাশে অনেকেই ঘুরছে তাই সোজাসুজি মেয়েটাকে বলাটা ঠিক হবে না। এদিকে মাঝখান থেকে সে মেয়েটাকেও বলতে পারছে। আবার দুইজনের সাথে ব্যাপারটা মিটমাট করতেও সুবিধা হচ্ছে।
রহিম কে আনার আরেকটা কাহিনী ছিল। ছেলেমেয়েদের তো অনুভূতি আলাদা। সে চাচ্ছিল এইটা শুনতে যে রহিম তার কথা গুলো শুনে কি বলে। কথাগুলো ছিল এরকম,
সুহান একজনকে পছন্দ করে। জাস্ট পছন্দ করে এটুকু বলাতেই মেয়েটা বলে ফেলে তার বয়ফ্রেণ্ড আছে। সেটা নিয়ে আসলে সুহানের কোন মাথাব্যাথা নেই। সে শুধু একটা ব্যাপার এজিউম করেছিল মেয়েটার কোন বয়ফ্রেন্ড নেই। মিথ্যা বলার কারন হতে পারে মেয়েটার পক্ষে সুহানের সাথে রিলেশনে যাওয়া পসিবল না। অথবা মেয়েটা চাচ্ছে সুহান তার পিছু নিয়ে তাকে বিরক্ত না করুক। অথবা মেয়েটা সত্যিই বলছে। যেটাই হোক উত্তর না। বয়ফ্রেন্ড এর ব্যাপারটা নিয়ে সুহান অনেক কিছু বলে ফেলেছিল মেয়েটাকে। সুহান ভেবে যাচ্ছে এই ব্যাপারটা নিয়ে মেয়েটা তাকে মিথ্যা বলছে।মিথ্যাটা সুহান মেনে নিতে পারে নি। মেনে না নেওয়ার কারণ টাও হাস্যকর।সে মনে করেছিল মেয়েটা তাকে খারাপ ভাবছে। এটা ক্লিয়ার করা দরকার।
আরও একটা মজার কাহিনী হল, সুহান যদিও মেয়েটার বয়ফ্রেন্ড নিয়ে কথা তুলেছিল (শুধুমাত্র জানার জন্য আছে কিনা) কিন্তু এই কথাটা একবারও বলে নি যে সে মেয়েটার সাথে রিলেশনে যেতে চায়। তবে গত রাতে ভেবেচিন্তে সে অন্য কিছু চিন্তা করে রেখেছে। তাই মেয়েটা মানতে রাজী হোক বা না হোক তাকে একবার এইটা অন্তত জানানো দরকার মেয়েটাকে নিয়ে সুহানের অনুভূতিগুলো কি।
তারপর তার কাছ থেকে শুনতে চায় সে কি বলতে চায়।কিছু না বলুক তাতেও কোন অসুবিধা নেই। কিন্তু সুহান চাচ্ছিল এই ভুল বোঝাবুঝির একটা অবসান হোক। তাই সে বার বার মেয়েটাকে বলতেছিল জাস্ট লেখাটা একবার পড়ে দেখতে। কিন্তু এবারে ঘটনা অন্য দিকে চলে গেল।
রহিম জানতে চাইল," আচ্ছা সুহান তুমি চাইছো তোমার অনুভূতিটা তার সাথে তুমি শেয়ার করবা।"
সুহান- "হ্যাঁ।"
রহিম-"যদি মেয়েটা না শেয়ার করতে চায়?"
সুহান কিছুক্ষণ চিন্তা করল সে নিজেই শুধু মেয়েটাকে বলবে, এখানে মেয়েটার শেয়ার করার ব্যাপার কিভাবে আসে? তারপর ভাবল শেয়ার করা মানে আসলে দুই তরফা এক্ট, এইটা দুই জনেরই করা লাগে। কিছুটা লেনদেন এর মত। তাই আবার বলল,"না আমি তার টা জানতে চাচ্ছি না। শুধু আমারটা জানাতে চাই"।
রহিম-”মেয়েটা যদি না জানতে চায়? মেয়েটা যদি ইগ্নোর করে তাহলে তুমি কি তাকে বিরক্ত করবা?"
সুহান-"কাওকে বিরক্ত করাটা আমার কোডের বাইরে।"
রহিম-"তাহলে তোমার কোডে কে কে আছে?"
এবারে সুহান মজা পেল। কোড মানে হল নীতিমালা। এখানে কে আছে জানার কোন প্রশ্নই আসে না। এই কাকে ধরে নিয়ে আসছে কথা বলার জন্য। এর থেকে জীবনকে আনলেও কাজ হত। যাই হোক সামলে নিয়ে বলল,"কোড মানে হল নিজের নীতি। কাওকে বিরক্ত করাটা আমার কোডের আওতায় পড়ে না।"
রহিম-"মেয়েটা যদি না জানতে চায়?"
সুহান বলেছিল,"আমার খুব খারাপ লাগবে।"
রহিম- "ধরে নাও তাও যদি সে জানতে না চায়? তারপরেও কি তাকে জোর করবা?"
সুহান- "না আমি জোর করব না"।
রহিম- "তুমি কি চাও তোমাকে মেয়েটা ব্লক করুক? তারপর তুমি বুঝবা যে মেয়েটা না করছে? "।(যদিও সুহান একবারো বলে নি মেয়েটার থেকে হ্যাঁ শুনতে চায় অথবা কোন রিলেশন এ যেতে যায়।জাস্ট তাকে জানাতে চায় তার প্রতি সুহানের চিন্তাটা কি)
সুহান- "আমি তাকে প্রেশারাইজ করব না। কারন তার না টা আমি মেনে নিয়েছি।
মেয়ে ও রহিম একসাথে- "তাহলে আমাদের কারোরই জানার প্রয়োজন নেই।"
মেয়ে- "কিছুক্ষণ পর ক্লাস শুরু হবে, আমার কিছু পড়তে ইচ্ছা করছে না।" বলে দুইজনেই সুহান কে একা রেখে চলে গেল।
কিছুটা শক খাওয়ার মতো হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলো সুহান।সবাই জানে এই ক্লাস টা অনেক দেরীতে শুরু হয়। তারপরেও এই সুন্দর অজুহাত। হতে পারে অজুহাত নয়। কিন্তু তারপরেও...... মেয়েটার সাথে রিলেশনে যাওয়ার ইচ্ছা নেই তারপরেও মেয়েটা কোন আগ্রহই দেখালো না। অথচ এই মেয়েই তার সাথে প্রতিদিন লেখালেখি করে। রহিম যদি পড়তে চাইত তাও হত। কিন্তু সেও চায় নি। তারমানে দাঁড়াল এদের কারোরই একে অপরের অনুভূতি নিয়ে মাথাব্যাথা নেই। অথচ সবাই দাবি করে সবাই সবার বন্ধু। দুঃখজনকভাবে হাস্যকর।
ক্যাম্পাসে ৬ তলায় দাঁড়িয়ে সে নিচে তাকিয়ে আছে। হঠাৎ করে একটা অদ্ভূত জিনিস খেয়াল করল সুহান। নিচে তাকিয়ে আজ তার মাথা ঘুরছে না। তার মানে কোন এক ভাবে তার ফোবিয়াটা মুছে গেছে।
ক্লাস শুরু হল অনেক দেরী করে। কি একটা ভয়ানক অবস্থা স্যার ক্লাসেই আসল না আজকে।পুরা দেড় টা ঘন্টা মাটি। মেয়েটা কাছেই ঘুরতে ছিল। কিন্তু সুহানের সাথে কোন কথাই বলল না।
এদিকে সুহানের জ্বর টা বাড়ছে। ভয়াবহ মাথা যন্ত্রণা হচ্ছে। আচ্ছা সুহানের কি ব্যাপারটা ইগোতে লেগেছে। নাহ ইগোতে লাগে নি। নিজেকে আরেকজনের কাছে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরাটা ইগোর আওতায় পড়ে না। তার উপর আরেকজনের উপর ইগো চাপিয়ে দেওয়া সুহানের কোডের বাইরে। এটা একটা বিরক্তিকর ব্যাপার। এবং এও তার আরেকটা কোড সে কখনও কাওকে বিরক্ত করবে না। মন ভেংগে গেল তার।
***
একটা এক্সট্রা ক্লাস করে বাসায় চলে গেল সে। বাসায় এসে নোটবুক টা বের করে খানিক্ষণ দেখল। একটাই আফসোস এই টা যদি সে পড়ত তাহলে হয়ত ঘটনা টা পালটে যেত। সুহান বুঝতে পেরেছে তারা দুইজনেই তার উপর বিরক্ত বোধ করেছে। এরপর হয়ত তারা আর কখনও সুহানের সাথে কথাও বলবে না। চোখে চোখ মেলাবে না।
সুহান সন্ধ্যায় একটা এলাট্রোল খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ল। একবার মনে হল লেখাটা পড়ে ঘুমাতে। কিন্তু আর ইচ্ছা করল না। ঘুমাতে ঘুমাতে চিন্তা করল তার সেই কালো ব্যাখ্যার ইতিহাস। যে ইতিহাস সুহানকে অমানুষের আরেক শ্রেণীতে নিয়ে গেছিল ৫ মাস আগে। তবে এটা সুহান কে মেনে নিতেই হবে, প্রেমে সে পড়েছিল ১ ঘন্টার জন্য হলেও।
পিডিএফ পড়তেঃ
https://drive.google.com/file/d/1ZKm6IY-2Ixmmzl89U08mB--uk4C3s2FW/view?usp=drivesdk
Tuesday, January 9, 2018
অভিশপ্তেরা (বিবিধ অধ্যায়) -নিরুদ্দেশ
অভিশপ্তেরা- (বিবিধ অধ্যায়)-নিরুদ্দেশ!!!!
(8-January-2018 12:00AM)
রাত হয়ত ১ টা বাজে। প্যারাক্যাফেইন খেয়ে সুহান একটু ঘুমানোর চেষ্টা করছে। শরীর ভয়ানক গরম। কপালে হাত দেওয়া যাচ্ছে না।
সুহান জানে সে ঘুমাতে পারবে না। ক্যাফেইন তাকে ঘুমাতে দেবে না। তাকে চিন্তাগুলো করতে জোর করবে। সন্ধ্যা থেকে নিরুদ্দেশ হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এই রুম থেকে অই রুম।
তার মেসের কাজের বুয়া বেশ ভয় পেয়ে যান। তিনি ভাবেন," সুহান কি জ্বিন গ্রস্থ?" তাকে ডেকে কথা বলেন, এটা ওটা জিজ্ঞেস করেন। কথা বলার পর বুঝতে পারেন কিছু একটা চিন্তা করছে সুহান ভাই। তাই আর না ঘাটিয়ে কাজে ফিরে গেলেন।
এদিকে মোটামুটি এই ঘর ওই ঘর ঘুরতে ঘুরতে প্রায় দুই ঘন্টা পর সুহান খেয়াল করল। তার গা গরম হয়ে গেছে। তখনও ১০ টা বাজে নি। শীত লাগছে। খেয়াল করল বাইরের রুমের একটা জানালা খোলা। বাতাস ঢুকছে। এখন মাথাও ব্যাথা করছে। আমিরুল ভাই সেদিন রাত্রে আসতে দেরী করল। শিহাব ভাই আসল আরও পরে। তখনও সুহান বাইরের রুমে ঘুরছেই। শিহাব ভাই এসে কলিংবেল দিতেই খুলে দিল সুহান। শিহাব ভাই তো অবাক," কি ব্যাপার সুহান ভাই। আপনি অই রুম থেকে এত তাড়াতাড়ি এসে পড়লেন? সুহান বলল,"না ভাই এই রুমেই ঘুরতে ছিলাম।"
এদিকে চিন্তায় মাথা গরম হয়ে যাচ্ছে। সন্ধ্যায় সুহানের মা ফোন দিয়েছিল। দুইবার ফোন দিয়েছিল। প্রথমবার ফোন দিয়েই টের পেয়েছিলেন কিছু একটা ঝামেলা আছে। আবার ফোন দিলেন জিজ্ঞেস করলেন কোন সমস্যা হয়েছে কিনা। এই কথার মধ্যে সুহান বুঝতে পারলো দিন যত পার হয় সন্তানের সাথে সাথে সন্তানের প্রতি মাতৃত্বও বড় হতে থাকে।৫ বছর আগে যা ছিল এখন আর তা নেই। ছোট বেলায় মন খারাপ করলে জিজ্ঞেস করত পেটে কোন সমস্যা আছে কিনা, কিছুদিন পর বলত কেও কিছু বলেছে কিনা। সন্ধ্যায় ফোন দিয়ে চমকে দিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করল,কাউকে পছন্দ হয়েছে কিনা? রেজাল্ট খারাপ হয়েছে কিনা?
কি অদ্ভূত। একেবারে জায়গামতো কোয়েশ্চেন করে ফেলেছে। কিন্তু তারপরেও সুহান কনফিউজড। আসলেই কি কাওকে পছন্দ হয়েছে নাকি অন্য কিছু। সব মিলিয়ে সুহান তার মন খারাপের ৩ টা কারন বের করল।
রাত ১ টা বাজতে তখন আর ঘন্টা খানেক মত বাকি।একবার মনে হল মাথা ঘুরে পড়েই যায় কিনা। কোনমতে সামলে নিয়ে ১ টায় আর সহ্য করতে না পেরে খেয়েই ফেলল ওষুধ। ওষুধ খাওয়ার পর মনে হল কাজটা ঠিক করে নি সে। আর মাত্র ১৫ মিনিট পরেই তার ঘুম উড়ে যাবে। শুরু হয়ে যাবে তার অটোনমাস এনালাইজিং প্রোসেস। এর চাইতে এলাট্রোল টা খেত।। ঘুম হত জব্বরদস্ত একটা। কিন্তু পরের দিন সকালে তাকে একটা ভুল বোঝাবুঝির অবসান করতে হবে। ১১ টায় ক্লাস। ১০ টায় চলে যেতে হবে। তাই বাধ্য হয়েই একটা রেনোভা প্লাস ই খেয়ে ফেলল।
এরপর শুরু হল সেই অস্থিরতা। কাল কি বলবে কাল কি বলবে? ঠিক একই ভাবে শুরু হল আরেক চিন্তা। সেই ৩ টা কারন। প্রথম টা এমন কিছু না। বাকী দুইটা সিরিয়াস, ২য় টা হল অন্যের অবহেলা জনিত কারন। তাকে জোর করে অবহেলা করা হচ্ছে। ৩য় টা আরও ভয়ানক। সে একটা মেয়েকে নিয়ে চিন্তা করছে। গত কয়েকদিন হল সে এমন কিছু কথা বলে ফেলেছে যেগুলা বেসিক্যালি মেয়েদের প্রোপোজ করার জন্য বলা হয়। যদিও সে মজা করে বলত।কারন....... কারণ টা বেশ জটিল। কিন্তু রিপ্লাই গুলো তার কাছে ক্রমেই সিরিয়াস হয়ে যাচ্ছিল। তাই তাকে বোঝানো দরকার তার প্রতি তার অনূভূতি টা কি।
ততক্ষণে সে বিছানা ছেড়ে আবার বাইরের রুমে চলে গেছে সে। এবারে সে গিয়েই জানালা টা বন্ধ করে দিল। তারপর শুরু হল চিন্তা। কিভাবে বুঝাবে আসলে কাহিনী কি হয়েছিল!
অনেক্ষন চিন্তা করার পর সে ভাবল কাজ যা করার সে জ্বরের মাথায় সন্ধ্যায় করেই ফেলেছে। মন খারাপ থাকলে যা করে সে। লেখে। অনেক লেখে। যতক্ষন পর্যন্ত মন না ভাল হয় ততক্ষন। এই লেখাটা সে দেবে তাকে। কিন্তু এখানেও একটা ঝামেলা আছে। সে এই লেখাটা পড়তে চাইবে না। কিন্তু তারপরেও এই ভুল বোঝাবুঝির একটা অবসান হতে হবেই। লেখাটা বের করে ভাবছে সুহান কোনটুকু দেবে। ঠিক করে ফেলল কোনটুকু দেবে।এর মাঝে একবার আমিরুল ভাই টয়লেট করতে উঠে দেখে সুহান কিছু একটা হাত নাড়িয়ে হিসাব করছে। বেশ ভয় পেয়ে একবার ভাবল জিজ্ঞেস করে দেখে সমস্যা কি। তারপর ভাবল পরের দিন বলবে।
এরপর ঘুমানোর চেষ্টা করল সুহান। খালিপায়ে ঘুরে ঘুরে মেঝের ঠান্ডা গায়ে মেখে আবার এক দফা ঠান্ডা বাঁধিয়ে সে ঘুমাতে গেল। তখন ৪ টা বাজে। আনুমানিক ৫ টায় ঘুমিয়ে গেল।
(8-January-2018 8:00AM)
সকালে ঘুম থেকে উঠে সুহান এর মাথায় বাজ পড়ল। সে গত রাত পুরোটা সামান্য একটা ব্যাপার নিয়ে শেষ করে ফেলেছে। কি বিপদ! মাথাটা হালকা লাগছে এখন। তাই বুঝতে পারল ব্যাপারটা।তখন বাজে সকাল ৯ টা ৩০। পায়জামা টা পরেই শীতের মধ্যে বের হয়ে গেছে। বাজার করতে হবে। কোনমতে শীতের মধ্যে কয়েকটা জিনিস নিয়ে এসে গায়েব হয়ে গেল ক্যাম্পাসে। এই ক্লাস অই ক্লাস ঢু দিয়ে খুঁজছে সে মেয়েটাকে। মেয়েটাকে যন্ত্রণা দিয়ে ফেলেছে অনেক। একটু দেখা করে অন্তত বলা উচিৎ কিছু একটা। পেয়ে গেল তাকে।ক্লাসে ছিল। কিছু বলল না। ক্লাস টা শেষ হওয়া দরকার। তারপর দেড় ঘন্টার ব্রেক।
ক্লাস শেষ করে উঠে মেয়েটার পিছে পিছে গেল। সাথে রহিম ছিল। এজ ইউজুয়াল এরা দুইজন এক সাথেই থাকে। ভাল বন্ধু তারা। ৩ জন এক সাথে বাইরে গেল। ঠান্ডা পড়েছে সেই। চা খাওয়ার জন্য গেল সবাই। যদিও সুহান চা খায় না তারপরেও সাথে থাকা লাগবে। চা খেতে খেতে রহিমের দিকে তাকিয়ে কয়েকটা কথা ভাবছে। এই ছেলের কিছু একটা কাহিনী আছে। রসবোধ একেবারেই নেই। তবে অনেক ভাল একটা ছেলে।
ক্যাম্পাসে গিয়ে রহিম বুঝতে পারে সুহান মেয়েটাকে কিছু একটা বলার চেষ্টা করছে। তাই বলল, "সুহান তোমরা যাও, আমি একটু বাইরে যাব।" এদিকে সুহান রহিম কে ছাড়বে না কারন সুহান জানে রহিম সাথে না থাকলে ও মেয়েটার সাথে ৫ মিনিটও কথা বলতে পারবে না।
যাই হোক কোনরকম জোর করেই ধরে নিয়ে যাওয়া হল। এক জায়গায় বসল সবাই। কথা শুরু করল সুহান। যদিও মেয়েটা সামনেই বসে আছে তারপরেও রহিম কে সে আরেকটা মেয়ে মনে করে নিয়ে কথাগুলো বলছে। আশেপাশে অনেকেই ঘুরছে তাই সোজাসুজি মেয়েটাকে বলাটা ঠিক হবে না। এদিকে মাঝখান থেকে সে মেয়েটাকেও বলতে পারছে। আবার দুইজনের সাথে ব্যাপারটা মিটমাট করতেও সুবিধা হচ্ছে।
রহিম কে আনার আরেকটা কাহিনী ছিল। ছেলেমেয়েদের তো অনুভূতি আলাদা। সে চাচ্ছিল এইটা শুনতে যে রহিম তার কথা গুলো শুনে কি বলে। কথাগুলো ছিল এরকম,
সুহান একজনকে পছন্দ করে। জাস্ট পছন্দ করে এটুকু বলাতেই মেয়েটা বলে ফেলে তার বয়ফ্রেণ্ড আছে। সেটা নিয়ে আসলে সুহানের কোন মাথাব্যাথা নেই। সে শুধু একটা ব্যাপার এজিউম করেছিল মেয়েটার কোন বয়ফ্রেন্ড নেই। মিথ্যা বলার কারন হতে পারে মেয়েটার পক্ষে সুহানের সাথে রিলেশনে যাওয়া পসিবল না। অথবা মেয়েটা চাচ্ছে সুহান তার পিছু নিয়ে তাকে বিরক্ত না করুক। অথবা মেয়েটা সত্যিই বলছে। যেটাই হোক উত্তর না। বয়ফ্রেন্ড এর ব্যাপারটা নিয়ে সুহান অনেক কিছু বলে ফেলেছিল মেয়েটাকে। সুহান ভেবে যাচ্ছে এই ব্যাপারটা নিয়ে মেয়েটা তাকে মিথ্যা বলছে।মিথ্যাটা সুহান মেনে নিতে পারে নি। মেনে না নেওয়ার কারণ টাও হাস্যকর।সে মনে করেছিল মেয়েটা তাকে খারাপ ভাবছে।
আরও একটা মজার কাহিনী হল, সুহান যদিও মেয়েটার বয়ফ্রেন্ড নিয়ে কথা তুলেছিল (শুধুমাত্র জজানার জন্য আছে কিনা) কিন্তু এই কথাটা একবারও বলে নি যে সে মেয়েটার সাথে রিলেশনে যেতে চায়। এদিকে সুহান চাচ্ছে হোক রিলেশন হোক যদিও সে বলে নি। তবে গত রাতে ভেবেচিন্তে সে অন্য কিছু চিন্তা করে রেখেছে। তাই মেয়েটা রাজী হোক বা না হোক তাকে একবার এইটা অন্তত জানানো দরকার মেয়েটাকে নিয়ে সুহানের অনুভূতিগুলো কি।
তারপর তার কাছ থেকে শুনতে চায় সে কি বলতে চায়।কিছু না বলুক তাতেও কোন অসুবিধা নেই। কিন্তু সুহান চাচ্ছিল এই ভুল বোঝাবুঝির একটা অবসান হোক। তাই সে বার বার মেয়েটাকে বলতেছিল জাস্ট লেখাটা একবার পড়ে দেখতে। কিন্তু এবারে ঘটনা অন্য দিকে চলে গেল। রহিম জানতে চাইল," আচ্ছা সুহান তুমি চাইছো তোমার অনুভূতিটা তার সাথে তুমি শেয়ার করবা। মেয়েটা যদি না জানতে চায়? মেয়েটা যদি ইগ্নোর করে তাহলে তুমি কি করবা?"
সুহান বলেছিল,"আমার খুব খারাপ লাগবে।"
রহিম- "ধরে নাও তাও যদি সে জানতে না চায়? তারপরেও কি তাকে জোর করবা?"
সুহান- "না আমি জোর করব না"।
রহিম- "তুমি কি চাও তোমাকে মেয়েটা ব্লক করুক? তারপর তুমি বুঝবা যে মেয়েটা না করছে? "।(যদিও সুহান একবারো বলে নি মেয়েটার থেকে হ্যাঁ শুনতে চায় অথবা কোন রিলেশন এ যেতে যায়।জাস্ট তাকে জানাতে চায় তার প্রতি সুহানের চিন্তাটা কি)
সুহান- "আমি তাকে প্রেশারাইজ করব না। কারন তার না টা আমি মেনে নিয়েছি।
মেয়ে ও রহিম একসাথে- "তাহলে আমাদের কারোরই জানার প্রয়োজন নেই।"
মেয়ে- "কিছুক্ষণ পর ক্লাস শুরু হবে, আমার কিছু পড়তে ইচ্ছা করছে না।" বলে দুইজনেই সুহান কে একা রেখে চলে গেল।
কিছুটা শক খাওয়ার মতো হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলো সুহান।সবাই জানে এই ক্লাস টা অনেক দেরীতে শুরু হয়। তারপরেও এই সুন্দর অজুহাত। হতে পারে অজুহাত নয়। কিন্তু তারপরেও...... মেয়েটার সাথে রিলেশনে যাওয়ার ইচ্ছা নেই তারপরেও মেয়েটা কোন আগ্রহই দেখালো না। অথচ এই মেয়েই তার সাথে প্রতিদিন লেখালেখি করে। রহিম যদি পড়তে চাইত তাও হত। কিন্তু সেও চায় নি। তারমানে দাঁড়াল এদের কারোরই একে অপরের অনুভূতি নিয়ে মাথাব্যাথা নেই। অথচ সবাই দাবি করে সবাই সবার বন্ধু। দুঃখজনকভাবে হাস্যকর।
ক্যাম্পাসে ৬ তলায় দাঁড়িয়ে সে নিচে তাকিয়ে আছে। হঠাৎ করে একটা অদ্ভূত জিনিস খেয়াল করল সুহান। নিচে তাকিয়ে আজ তার মাথা ঘুরছে না। তার মানে কোন এক ভাবে তার ফোবিয়াটা মুছে গেছে।
ক্লাস শুরু হল অনেক দেরী করে। কি একটা ভয়ানক অবস্থা স্যার ক্লাসেই আসল না আজকে।পুরা দেড় টা ঘন্টা মাটি। মেয়েটা কাছেই ঘুরতে ছিল। কিন্তু সুহানের সাথে কোন কথাই বলল না।
এদিকে সুহানের জ্বর টা বাড়ছে। ভয়াবহ মাথা যন্ত্রণা হচ্ছে। আচ্ছা সুহানের কি ব্যাপারটা ইগোতে লেগেছে। নাহ ইগোতে লাগে নি। নিজেকে আরেকজনের কাছে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরাটা ইগোর আওতায় পড়ে না। তার উপর আরেকজনের উপর ইগো চাপিয়ে দেওয়া সুহানের কোডের বাইরে। এটা একটা বিরক্তিকর ব্যাপার। এবং এও তার আরেকটা কোড সে কখনও কাওকে বিরক্ত করবে না। মন ভেংগে গেল তার।
একটা এক্সট্রা ক্লাস করে বাসায় চলে গেল সে। বাসায় এসে নোটবুক টা বের করে খানিক্ষণ দেখল। একটাই আফসোস এই টা যদি সে পড়ত তাহলে হয়ত ঘটনা টা পালটে যেত। সুহান বুঝতে পেরেছে তারা দুইজনেই তার উপর বিরক্ত বোধ করেছে।
সুহান সন্ধ্যায় একটা এলাট্রোল খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ল। একবার মনে হল লেখাটা পড়ে ঘুমাতে। কিন্তু আর ইচ্ছা করল না। ঘুমাতে ঘুমাতে চিন্তা করল তার সেই কালো ব্যাখ্যার ইতিহাস। যে ইতিহাস সুহানকে অমানুষের আরেক শ্রেণীতে নিয়ে গেছিল ৫ মাস আগে।
Friday, January 5, 2018
অভিশপ্তেরা Chapter -4 হতাশা
Chapter-4 (হতাশা)
ভার্সিটিতে ভর্তির জুস টা খুবই বাজেভাবে ছেলে-মেয়েদের খাওয়ানো হয়। এই জুস খেয়ে এরাও ভ্রান্তিতে ভুগে। একসময় ভ্রান্তিটাই অভিশাপ হয়ে দাঁড়ায়। সব মা-বাবাই চায় তার ছেলে-মেয়েরা এক সময় নিজে থেকে সব বুঝবে।ব্যাপারটা এত সহজ না। মানুষ একটা জিনিস অনেক ভাবে বুঝতে পারে। বাংলাদেশে সব মা-বাবাই তাদের ছেলেমেয়েদের শেখান সরকারী ইউনিভার্সিটি তে চান্স পেলে আরামে থাকবা।
এই ব্যাপারটাই একসময় তারা নিজেদের কে ভুল ভাবে বুঝায়। শিক্ষক যখন সাজেশন দেয় সেটা থেকে আমরা নিজেরা আবার সাজেশন করে পড়া শুরু করি। এখানেও ব্যাপারটা সেরকম হয়। অনেকেই আছে ভার্সিটিতে উঠে নিজের ইচ্ছামতো ঘুরে বেড়ায়। ইফেক্ট টা ইভেঞ্চুয়ালি তাদের ক্যারিয়ারের উপর পড়ে। ফলাফল যখন ম্যাচিউরিটি আনা দরকার তখনও ম্যাচিউরিটি আসে না। এরা সময় নষ্ট করে মরীচিকার পিছে ঘুরে।
সুহান বেশ চাপা স্বভাবের একটি ছেলে, কারও সাথেও তেমন একটা যোগাযোগ নেই। যোগাযোগ রাখার ইচ্ছাও নেই। ক্যাম্পাসে ঢোকার আগে সে মোটামুটি একটা প্রতিজ্ঞা করেছিল যে ক্যাম্পাসে উঠে সে ফ্রেন্ড বানাবে না। কিন্তু তারপরেও অনেকের সাথে অনেক ভাবে যোগাযোগ হয়েছে/যোগাযোগ রেখেছে।
ক্যাম্পাস লাইফ টা ঠিক যেরকম প্রেডিক্ট করেছিল সুহান তেমন টা হয়নি। এখানে মোটামুটি সবাই কোনমতে পাশ করে বের হবার উদ্দেশ্যে থাকে। কোন ইনভেন্টিভ কাজ কর্ম এখানে কেওই করে না। এদেরও দোষ দেওয়া যায় না। আসলে সময় কই।
সবাইকে এক রকম ঘোরের মধ্যে রেখে দিয়েছে এই ক্যাম্পাস কর্ত্রীপক্ষ। এই একই দল দুমুখো সাপের মতো কাজ করে। এক দল বলে পড়াশোনা না করলে রেজাল্ট খারাপ হবে। আর প্রাইভেট ভার্সিটিতে রেজাল্ট খারাপ করা আবার আরেক বিপদ। রিপিট দাও,ফিস দাও,নতুন করে এটা সেটা করো। আরেকদল বলবে কাজ কর,কাজ শিখ, নাহলে পরে যেয়ে প্রোফেশনাল লাইফে উন্নতি করতে পারবে না। বিশাল বিপদ একটা করতে গেলে আরেকটা হয় না। কেও কাজ শিখতে যাবে,পড়া হবে না। আর শুধু পড়তে থাকলে কাজ কিছুই শিখবে না।
এগুলো তো যাই হোক ক্যাম্পাস থেকে হয়। এ বাদেও বুলি(Bully) করা, ঝামেলা পাকানো এসব তো নিজেদের ভিতরেও হয়। ক্যাম্পাসে এসে সুহান টের পেল আসলে সবাই ক্যাম্পাসে পড়ার জন্য ভর্তী হয় না। কারও কারও আবার অন্যান্য নিয়ত থাকে। আসলে বর্তমান অবস্থা এমন হয়ে গেছে সার্টিফিকেট না থাকলে চাকরী মেলে না। চাকরী না পেলে ভবিষ্যৎ এর কোন নিশ্চয়তা নেই। তাই কেও কেও কোনরকম পাশ করার জন্য ক্যাম্পাসে ভর্তী হয়। আশায় থাকে অন্তত সার্টিফিকেট টা থাকলে কিছু একটা করা যাবে।
এদের মধ্যে আবাবার অনেকেরই কাজ করার প্রতি অনীহা থাকবে। তারা নিজেরাও কাজ করবে না,আবার অন্যেরা কাজ করলেও তারা নাক সিঁটকাবে। ক্লাসে এমন ঝামেলার সম্মুখীন হওয়া লেগেছে। একবার একটা পিকনিকে যাওয়ার ব্যাপারে সুহান রাজী না হলে রিক্ত ক্লাসে বলেছিল," সুহান,তুই কি সারাজীবনই এমন আঁতেল হয়ে থাকবি।"
অন্য কেও হলে ক্ষেপত। আঁতেল এর আক্ষরিক অর্থ টা তেমন কিছু না হলেও ভাবার্থ টা অনেক ভয়ানক। সুহান কিছু বলে না। এদের মত কারও সাথে ঘোরাঘুরি করা পিকনিক করে বেড়ানো এগুলো সুহানের ভিতর থেকে অনেক আগেই শেষ হয়ে গিয়েছে। কোথাও বেড়াতে গেলেই ২ দিন ধ্বংস। ২ দিনে কি কি করা যেতে পারে এ ব্যাপারে এদের কারোরই কোন অনুমান নেই।
মাঝে মাঝে সুহান হতাশাবোধ করে। খুব একা মনে হয় নিজেকে। আশেপাশে আরও হতাশ মানুষ আছে। এরা অনেকেই নিজেদের হতাশাগ্রস্থ করে রাখে। কেও দিনের পর দিন ধোয়াঁ উড়িয়ে নিজেদের এই মিথ্যা হতাশা কাটাচ্ছে। কেও শুনছে হতাশাবাদীদের গান। অথচ সময় টা কাজে লাগাচ্ছে না। কি অদ্ভূত। এরা নিজেদের সমস্যা এবং সমাধান দুইই জানে অথচ কিছুই করে না।
একটা ব্যাপারে সুহান নিশ্চিত ছিল। এইখান থেকে যত দ্রূত সম্ভব বের হতে হবে। আবেগ দেখানোর কোন সময় নেই।
https://drive.google.com/file/d/1_r8qIv7FhOnCDa8hgaxU3Z5YxzpnWPIL/view?usp=drivesdk
Sunday, October 29, 2017
একটি মৃত বিড়াল
https://drive.google.com/file/d/0B6i1IEvpnM6zb2tVdEtVQ0JYQmM/view?usp=drivesdk
Friday, September 8, 2017
অভিশপ্তেরা Chapter-3 সাইকোগ্রাফি
Chapter-3 (সাইকোগ্রাফি)
সুহানের একটা অভ্যাস ছিল। যেখানেই যেত, সেখানেই সে লোকজনের আচার-আচরন এনালাইসিস করতে লাগত। তার মতে, "ছেলে হোক মেয়ে হোক সাইকোগ্রাফি দিয়ে অনেকের ব্যাপারে অনেককিছু জানা সম্ভব।" এটা করতে গিয়ে অবশ্য সে কারও মনে কষ্ট দেয়নি। কিন্তু নিজে অনেক জটিলতায় ভুগেছে।
যেমন ধরা যাক এক ছেলের কথা। এই ছেলে অন্য এক সেকশন এর ছেলে,তারই সেমিস্টার এর। এই ছেলে নাকি কাকে একবার খুন করেছিল। কিভাবে কিভাবে জানি সুহান বের করেছিল অতীতে এই ছেলে কাওকে খুন করেছে। ঘটনা সত্য ছিল। এটা সে এতদিন পর্যন্তও চেপে রেখেছে। এরকম অনেকের ব্যাপারে অনেককিছু জানত সে। তার প্রেডিকশন এর ক্ষমতা অনেকটা সত্যের মতই সত্য ছিল।
ক্যাম্পাসে এসে সে কয়েকটা ব্যাপার দেখেছে। যেসব শিক্ষার্থীরা অনেক দূরে থেকে আসে তারা আস্তে আস্তে রেজাল্ট খারাপ করে। আবার খুব কাছে যারা থাকে তারাও। দূরের টা হয়ত করতে পারে। কাছেরটা কেন? কারন কাছে থাকলে তারা অলস হয়ে যায়। এছাড়াও কাছে থাকলে অনেকের যাওয়া-আসা থাকে। এটাও একটা সমস্যা। তাই সুহান ছিল একেবারে কাছেও না আবার দূরেও না। কিন্তু ২য় বছরে তার এই ডিলিউশন টা কেটে যায়। চলে আসে ক্যাম্পাসের কাছে।
এবারে একটা প্রশ্ন করি। সাইকোগ্রাফির প্রেক্ষিতে এর একটা প্রয়োজন আছে। এইযে বলা হয়, "ছেলে মেয়ে সবাই সমান" এই কথার যৌক্তিকতা কতটুকু? আসলে কথাটার মানে কি? এই কথাটা কই আদৌ সত্যি?
মৌলিক অধিকার বলতে আমরা যেটা বুঝি সেটা সবার ভিতরে সমানভাবে যাতে বন্টিত হয় সেটাই এখানে বোঝানো হয়েছে। কিন্তু সমস্যা হল দুইজনের সাইকোগ্রাফি কতটুকু সমান? এই এক যায়গাতেই কখনও ছেলে মেয়ে সমান হতে পারবে না। কিছু একটা অমিল থেকে যাবেই। এর একটা হালকা-ঝাপসা উদাহরন সুহান পেয়েছিল।
সে দেখেছে ফার্মেসী ডিপার্টমেন্ট এ মেয়েদের সংখ্যা বেশি। কিন্তু, EEE তে কম। EEE তে লজিকাল পড়াশোনা বেশি হয়। যদিও মেয়েরা পড়া বুঝে কম কিন্তু মেয়েরা অনেক বেশি ডিটারমাইন্ড থাকায় পড়া মুখস্থ করে পার পেয়ে যায়। কিন্তু এই পড়া বুঝার জন্য মেয়েরা কম ঝামেলায় পড়ে না।ক্যাম্পাসের ছোটভাই থেকে শুরু করে বড় ভাই সবার সাথেই তাদের যোগাযোগ রাখতে হয়। মেয়ে বলে ব্যাপারটা হয়ও সহজে। ছেলেদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা একটু গোলমেলে হয়ে পড়ে। একে তো প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি, প্রচুর টাকা; তার উপর আবার পরিবারের চিন্তা, চাকরীর চিন্তা। আর বাড়ির বড় ছেলে হলে তো কথাই নেই।
তাই বলা যায় মেয়েরা ছেলের মত,অথবা ছেলেরা মেয়ের মত চলতে হবে এর কোন মানে নেই। চলতে সেভাবে যেভাবে চলাটা জরুরি। ছেলেদের কথা ধরি, এরা ইমার্জেন্সিতে রাস্তার পাশে হিসু করবে। তাও দাঁড়িয়ে। মেয়েরা কি পারবে? আবার মেয়েরা বাচ্চাকাচ্চা যেভাবে বড় করে,একটা মেয়ের বয়ঃসন্ধিকালে একজন মা তার মেয়েকে দেখভাল করে,কোন ছেলে কি পারবে? ছেলেরা তাদের অন্তর্বাস ৪/৫ দিন না ধুয়ে পরলেও কিন্তু তাদের বিশেষ কোন সমস্যা হয় না। এটা একটা মেয়ে করুক, আমি নিশ্চিত তার যোনিমুখে ইনফেকশন হবে। একটা ছেলে কখনও শিশু পেটে ধরতে পারবে না। (আমি তো ছেলে। তাই মেয়েদের ব্যাপারে এতকিছু বলার জন্য ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।) তাই যার যেমন টা দরকার সেভাবে চলা উচিৎ। জোর করে একজন আরবকজনের মত করে চলার প্রয়োজন নেই। সুহানের সবসময়ই মনে হয় EEE তে মেয়েদের পড়াশোনাটা একটা ষড়যন্ত্র ছাড়া কিছুই না। কারন কোন মেয়েই আরেকজনকে পড়া পড়ে বুঝিয়েছে এমনটা পাওয়া যায়নি।
*
জীবন কে উপর থেকে যতটা "মেয়ের-পিছে দৌড়ানো" মার্কা মনে হয় সে কিন্তু তেমনটা নয়। এই ছেলেও মেয়েদের ব্যাপারে পরিষ্কার ধারনা রাখে। ব্যাপারটা সুহান টের পেয়েছিল বেশ জটিল একটা ঝামেলায় পড়ে। ঘটনা টা পরে বলি। তার আগে রিমার ব্যাপারে সুহানের চিন্তাটা পরিষ্কার করে নেই।
সুহান একটা মেয়েকে পছন্দ করে বসে। নিতান্ত অনিচ্ছা সত্বেও রিমাকে সে বলেছিল মেয়েটার সাথে তার একটা যোগসাজশ করে দিক। প্রথমে রিমা আমল দেয়নি, কিন্তু পরে যখন দেখল সুহান বেশ সিরিয়াস তখন অনেকভাবে বুঝিয়েছে এই ব্যাপারে না এগোতে। সুহান তখনও যখন সিদ্ধান্তে অটল ছিল তখন রিমা তাকে বুঝিয়েছিল, "একটা জব করা শুরু কর,তারপর প্রেম কর।" আরো বলেছিল, "একই ক্লাসের তো, হব না,বাদ দাও সুহান।" এরপর সুহান রিমাকে কিছুটা কন্সার্ভেটিভ বা নিয়ম আঁটা মেয়ে বলে মনে করে। এরকম মেয়েরা অনেক বেশি ডিটারমাইন্ড হয়ে থাকে। জীবনটা এদের কাছে শুধু বাঁধাধরা একটা প্যাটার্ন ছাড়া কিছুই নয়। এটা সত্যি যে একটা মেয়েকে সারাজীবনে অনেক ভুগতে হয়, তারপরেও রিমার মত মেয়েরা ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশি চিন্তা করে তাই না, এরা ভবিষ্যৎ কে ভয়ও পায় অনেক।
এতো গেল এক মেয়ের ব্যাপার। কোন কোন মেয়ে নাকি পাশ করার জন্য ভাল ছাত্রদের সাথে প্রেম করেছে এমনও শুনেছে সে। তার সেমিস্টার এর মেয়েগুলা এই সাপেক্ষে অনেক ভাল। তার মানে পুরো ঘটনা মোটামুটি দাঁড়ালো যে প্রাইভেট ভার্সিটির মেয়েগুলো বেশ কাটখোট্টা ধরনের হয়। বয়স বেশি হওয়ার কারনেও এমন হতে পারে, তবে যাই হোক প্রাইভেট ক্যাম্পাসের ছেলে-মেয়ে গুলোর অনুভূতিগুলো অনেকটা মাপা বা সীমিত গোছের। এরা যদি হাসে তার পিছনেও কারন থাকবে, যদি কাঁদে তাও থাকবে, যদি ভালবাসে তাও একটা কারন লাগবে। ম্যাচিউরিটি টা এভাবেই হত হয়। তবে সুহানের চিন্তাগুলো খুব সরল থাকায় এগুলো সে হুট করে বুঝে উঠতে পারেনি।
এখন কথা হল, যে এতগুলো এনালাইসিস করে হবে টা কি? যুদ্ধক্ষেত্রে বন্ধু-শত্রু চেনাটা জরুরী। নাহলে অনেক বিপদে পড়তে হয়। সুহানেরও তাই এনালাইসিসগুলো করা প্রয়োজন ছিল অনেক। তবে সুহান বন্ধুর ব্যাপারটা এড়িয়ে চলার পিছনে একটা কারন ছিল।তার আগে জেনে নেই সুহানের মতে বন্ধু কি?
সুহানের মতে বন্ধু হল সেই ব্যক্তি যার সাথে মনের কথাগুলো খোলাখুলি আলোচনা করা যায়, এবং বন্ধুত্ব এমন একটি সম্পর্ক যেটা সারাজীবনের জন্য থেকে যায়। ক্যাম্পাসে এসে সবসময়েই সে দেখেছে এরা শুধু পড়ার জন্য একে অপরকে ফ্রেন্ড বানায়। যদি পড়াশোনার সাহায্য কমে যায় এই বন্ধুত্বও আর থাকে না। এরা কিছুটা একে অপরকে ব্যবহার করে। সুহান কখনও চায়নি সে এভাবে কাওকে ব্যবহার করুক। তাই কারও সাথেই তার বন্ধুত্ব সে নিজেই গাড় হতে দেয়নি। সারা সেমিস্টার এর পড়া সে একাই নিজে পড়ে। খুব কম ক্ষেত্রেই সে সাহায্য নেয়।
তবে এক টাইপের ছেলে-মেয়েদের থেকে সে সবসময় দূরে থেকেছে। যারা পড়া-শোনা কিছুই করে না। এবং এই ছেলেগুলোই দেখা যায় পরীক্ষার আগে পড়াগুলাও কিছুটা খেয়ে উগলে দেওয়ার মত করে পড়তে চায়। এরা আসলে কিছুই বুঝতে চায় না। কিন্তু পুরো জিনিসটার সিকুয়েন্স বুঝতে চায়। তারমানে এদেরকে আবার সবকিছু নতুন করে পড়ানো লাগবে। অসম্ভব! একটা নির্দিষ্ট যায়গায় সমস্যা হলে হয়। যে কিছুই পড়ে নি তাকে কিছু বোঝানো সম্ভব না। পড়ানোর ঠেকা টা স্যার রা নিয়ে রেখেছেন।
এবারে আসি সুহান এর ব্যাপারে। সুহান কে নিয়েই তো পুরোটা লেখা। তাই গল্পের সাথেই থাকুন। সুহানের সাইকোগ্রাফি টা নাহয় আপনারাই করবেন।
এই চ্যাপ্টার এর পিডিএফঃ
https://drive.google.com/file/d/0B6i1IEvpnM6zcWpBN0J4OVlqbXM/view?usp=drivesdk
Wednesday, August 30, 2017
অভিশপ্তেরা Chapter-2: ইতিহাস
Chapter-2 (ইতিহাস)
অনেকের মুখেই হয়ত শোনা যায় বাংলাদেশের শিক্ষাব্যাবস্থার অবস্থা খারাপ। এখন যদি জিজ্ঞেস করা যায় কিভাবে খারাপ, অনেকেই বলতে পারবে না। আসলে ঘটনা টা কি? সবাই এই শিক্ষাব্যবস্থা কে মুখ খিস্তি দেয় কেন? সকালের ঘুমটা ঠিকমত হয় না বলে? টাকা নষ্ট হয় এজন্য? নাকি সময় নষ্ট হয়? নাকি অন্য কিছু?
এই কথাটা পরে বলব। এখন একটা সাধারন ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করা যাক। ইন্টার এর পর বাংলাদেশে সাধারনতঃ ছাত্রছাত্রী দের যে ক্লাসিফিকেশন আছে সেগুলো হল, (১) এক দল এডমিশনের জন্য কোচিং এ ছোটে। (২) এক দল গিয়ে জাতীয় বিশ্ব্যবিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। (৩) আরেক দল আছে যারা আগে থেকেই জানে এসব করে কোন লাভ নাই, যেয়ে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি তে ঠাঁই করে নেয়।
এরপর আসি (১) এর দলে। এরা কোচিং শেষ করে সারাদেশ টেস্ট দিয়ে বেড়াবে। এদের আবার ভাগ আছে। (১) এক দল আছে যারা প্রথমেই চান্স পেয়ে যায়।(২) অন্য এক দল।এরা চান্স পায়,কিন্তু মনের মত না।পরের বার আবার চান্স পেতে হবে তাই ভর্তি হয়ে বসে থাকে,ক্লাস করে না। যদি চান্স না পায় তাহলে যেটায় ভর্তি ছিল সেটা কন্টিনিউ করে।(৩) আরেক দল চান্স না পেয়ে প্রাইভেট এ চলে যায় অথবা জাতীয়। (৪) আরেক দল কোথাও চান্স না পেয়ে আবার এডমিশন কোচিং শুরু করে।
এর ভিতর আবার (৪) এর দল তারপরেও কোথাও চান্স না পেয়ে প্রাইভেট এ চলে যায়। সুহান হল সেরকম এর ভিতর একজন। তবে ব্যাপারটা এত সহজে হয়নি। সুহানের ইচ্ছা ছিল সে কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়বে। কিন্তু কয়েকটা সমস্যা ছিল। প্রথমত সুহান এর বাড়ির পাশেই একটা পাওয়ার প্ল্যান্ট আছে যেখান থেকে অনেক অনেক মেগাওয়াট বিদ্যুৎ তৈরি হয়। সাধারনতঃ বাড়ির পাশে যখন এরকম কিছু থাকে সব মা-বাবা,অভিভাবক স্বপ্ন দেখেন তার সন্তান বাড়ির পাশে এসে চাকরী করুক।
সেদিন সুহান উপজেলা চত্বরে ওয়াইফাই চালাচ্ছিল। তার ছোট কাকু ফোন দিয়ে বলল ভর্তীর ব্যাপারে। তাকে বুঝানো হয়েছিল সে যেন ইলেক্ট্রিকাল ইলেক্ট্রনিক্স এ ভর্তি হয়। খোঁজ নিয়ে জানল ইউনিভার্সিটির CSE এর সিট শেষ। নিরুপায় হয়ে সে এই সাবজেক্ট টাই বেছে নিয়েছিল।
প্রথমের দিকে সে টের পায়নি আসলে ঘটনা টা কি ঘটেছে। কিন্তু পরে বুঝল CSE আর EEE এর মধ্যে অনেক তফাৎ আছে। তার উপরগ ডিপার্টমেন্ট এর ক্যাঁচাল। বেচারা সারাদিন পড়ে অথচ রেজাল্ট করতে পারে না। ১ম সেমিস্টার এ এর জন্য বাড়িতে কঠিন বকাঝকাও খেতে হয়েছে তাকে। সুহান এটা নিয়ে অনেক মন খারাপ করেছিল। এই এখনও তাকে স্কুল-কলেজের মত বকা খেতে হবে ভার্সিটি উঠে? এই ছিল কপালে?
২য় সেমিস্টার থেকে অবশ্য ব্যাপারটা ঠিক হয়ে গেছিল। তাকে আর বকাঝকা করা হত না। ২য় সেমিস্টার এ সে পড়েছিলও অনেক। কিছুটা খাওয়া-দাওয়া ভুলে পড়ার মত। এর জন্য তাকে যন্ত্রনাও কম পোহাতে হয়নি। সেই সেমিস্টার এ সুহান এর মাঝেমধ্যেই প্রচন্ড মাথাব্যাথা হত। প্যারাসিটামল খেতে খেতে এমন অবস্থা হয়েছিল নর্মাল ডোজ আর কাজই করত না। এরপর সে ক্যাফেইন+প্যারাসিটামল খাওয়া ধরেছিল।
কিছুদিন যেতে যেতে সুহান বুঝল আসলে এত মাথা ঘামিয়ে পড়ার কিছুই নেই। সবই মুখস্থ। কিন্তু সমস্যাটাও শুরু হল সেখানে। সুহানের মুখস্থ বিদ্যা অনেক খারাপ। এইসব প্যাটার্নলেস ম্যাথ,হিস্টোরি,সোসিওলজি নিয়ে ১ম সেমিস্টার থেকেই সে অনেক কনফিউজড ছিল। ২য় সেমিস্টার এ তার রেজাল্ট অবশ্য ভাল হয়েছিল। তবে মাথাব্যাথাটা আরও হল ৩য় তে উঠার পর। সেটা পরের গল্প। তার আগে আমরা সেই প্রশ্নটায় যাই।
সেটা হল, বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা কেন খারাপ? কয়েকটা কারন আছে। তবে সুহান মনে করে ঠিকমত ম্যাথ না শেখা/শেখানোটা এর অন্যতম কারন। ইন্টারমিডিয়েট এ উঠার পর সুহানকে ম্যাথ নিয়ে ভুগতে হয়েছে সবচেয়ে বেশি। ফলাফল, সে এখনও পর্যন্ত জানে না ক্যালকুলাস এর ম্যাথ গুলো করার উদ্দেশ্য কি! ক্যালকুলাস এর ফর্মূলা ফিজিক্স এ কেন!
ক্যালকুলাস সম্পর্কে সুহানের আগ্রহ হয় যখন সে মোঃ জাফর ইকবালের গল্পের বই পড়ত। সেখানে লেখা ছিল কিভাবে ১২-১৩ বছরের একটি ছেলেকে তার বাবা ক্যালকুলাস শিখিয়ে দিচ্ছে। অথচ সে নিজে কিছুই জানে না বুঝে না। ইন্টারমিডিয়েট এ উঠে সে ক্যালকুলাস টা অনেক ভাবে ভিজুয়ালাইজ (দৃশ্যমান) করার চেষ্টা করেছে তারপরেও লাভ হয়নি।
উদ্ভাস এ কোচিং করতে গিয়ে যেদিন সে ম্যাথে ফাংশনের ক্লাসটা করতে যায় সেদিন সে টের পায় আসলে ঘটনা কি? এই এতদিন ধরে সে জানতই না যে ফাংশন জিনিসটা কি। অথচ সে এই টপিক ক্লাস ৭/৮ থেকে করে আসছে। তাহলে এতদিন কি করল সে? ম্যাথ মুখস্থ করেছে। তারপরের কাহিনীগুলো আরও ভয়াবহ। সে এই ক্যালকুলাস শেখার জন্য অনেককিছু করেছে। জাপানে ক্যালকুলাস শেখার জন্য একটা কমিক্স আছে, এটাও সে পুরোটা ঘেটে দেখেছে। লাভ হয়নি।
ভার্সিটি তে ভর্তি হওয়ার পর অনেক চেষ্টা করেও সে ম্যাথ এর জটিলতা থেকে রক্ষা পায়নি। ইন্টারে থাকতে সে এক স্যারের কাছে ম্যাথ করত। এখনও সুহান সেই স্যার এর কথা মনে করে। উনিই এর থেকে ভাল ছিলেন। অন্তত নিজে থেকে কিছু বলতেন। এখানে কেও কিছু বলে না। শুধু শীট দেখে বোর্ড এ অংক করানো হয়। এটার কপি এক্সামে ছেড়ে দিলে তারপর পাশ।
ততদিনে সুহান বুঝে গেছে আসলে CSE এর সাথে EEE এর পার্থক্য টা কোথায়। একটা সাবজেক্ট এ প্রোগ্রাম শেখানো হয়। আর একটায় প্রেশার দেওয়া হয় টেলিকমিউনিকেশন আর পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট এ। বাংলাদেশে চাহিদা যেটার বেশি আরকি।
ক্যাম্পাসে উঠার পর সুহান একটা গোঁড়ামীতে ভুগেছিল অনেকদিন। সে ক্যাম্পাসে শুধু পড়তে এসেছে। বন্ধু সে বানাবে না। বান্ধবী তো ভুলেও না। যদিও অনেককে সে পছন্দ করেছে বন্ধু-বান্ধবী হিসেবে, কিন্তু কাওকে সময় দেয়নি। তার রুম মেটদেরকে নিয়েও তার বিশেষ মাথাব্যাথা ছিল না। সারাদিন শুধু পড়ত। আর খুব বেশি খারাপ লাগলে কার্টুন/মুভি দেখে কাটিয়ে দিত। প্রোগ্রাম এর উপর ঝোঁক ছিল অনেক। তাই সময় পেলে ক্যাম্পাস এ কম্পিউটার ল্যাব এ বসে কাজ করত। এই গোঁড়ামীটা অবশ্য ৩য় সেমিস্টার এ এসে উলটে যায়। তারপর থেকেই জীবন এর সাথে তার ভাব হয়। এই কাহিনীটা পরে একসময় বলি।
১ম সেমিস্টার এ সুহান অনেক আপসেট ছিল। কয়েকটা কারনে। আসলেও কি সে পড়াশুনা চালিয়ে যেতে পারবে? নাকি মাঝপথে এসে ছেড়ে দিতে হবে? এত টাকা দিয়ে পড়ছে শেষমেষ কি হবে? বাবা-মা কি তাদের কোনকিছু বিক্রি করে দিচ্ছে না তো? এর চাইতে কি ফর্ম টা নিয়ে গিয়ে কুষ্টিয়া চলে যাবে ম্যাথ এ অনার্স করার জন্য..............। এরকম ভাবতে ভাবতে ১ সেমিস্টার পার হউয়ার পর সে বুঝতে পারে এর চাইতে ভাল করে পড়তে হবে। রেজাল্ট করতে হবে। ব্যাস ওয়েভার! তাহলেই হয়ত ঝামেলা ঘুঁচবে।
ব্যাপারটা এতটা সহজ হয়নি তার জন্য। তবে চোখ কান খোলা রেখে সে কয়েকটা ব্যাপার ধরেছিল। প্রথমত, EEE এর মত একটা সাবজেক্ট এ পড়ে এমন কেও কেও আছে যারা কিছু না বুঝেও ভাল রেজাল্ট করে। কেও কেও আছে কোনরকম রেজাল্ট করে বের হোক। তাহলে এদের মূল উদ্দেশ্য কি? আর তার চাইতে বড় কথা এরা পাশ করে কিভাবে? পুরো ক্যাম্পাসে ফার্মেসীতে একটা মেয়ে ছিল যার নাকি সব সেমিস্টার এই রেজাল্ট ৪/৪ থাকত। সে তাহলে কিভাবে পড়ত?
কিছুদিন পর সে টের পায়, বড় ভাইদের সলভ এর ব্যাপারে। সেগুলো পড়েই সবাই পাশ করে। কেও কেও আছে তাদের বন্ধুদের থেকে কোনরকম বুঝে নেয়। আরও একটা ব্যাপার আছে সেটা হল প্রশ্ন রিপিট হয়ে। তার মানে কেও যদি আগের বছরের প্রশ্ন সমাধান করে এক্সাম দিতে যায় তার জন্য ভাল রেজাল্ট করা খুব একটা কঠিন ব্যাপার না। এই থিওরীগুলো ২য় সাময়িক এ তার অনেক কাজে লাগে। তখন সে কোনরকম গুছিয়ে নিতে পারে।
ক্যাম্পাসে আসার পর একটা ব্যাপার নিয়ে তার মেজাজ খারাপ হত। যেকোন প্রোগ্রাম নিয়ে সকলের মাতামাতি। ক্যাম্পাসে যে প্রোগ্রামই হোক না কেন সেটাকেই সে ওয়েভার খাওয়ার একটা ধূর্ততা হিসেবে দেখত। একটা প্রোগ্রাম একটিভেট করতে যে পরিমান সম নষ্ট হয় এর থেকে ৮ ঘন্টা ঘুমানো ভাল। যদিও সোসালাইজেশন এর দোহাই দিয়ে অনেকেই এই প্রোগ্রাম করে, কিন্তু এর জন্য প্রতি সেমিস্টার এ কষ্টটাও কম হয়না। মোটামুটি এভাবেই চলছে সুহানের পড়াশোনা। আর সুহানের মত আরও অনেকের। আচ্ছা এই সবারও কি তাহলে সুহানের মত ইতিহাস আছে? নাকি অন্যরকমও আছে? থাকতে পারে।
এই চ্যাপ্টার এর পিডিএফঃ https://drive.google.com/file/d/0B6i1IEvpnM6zYnJHMkIyamxxbmM/view?usp=drivesdk
চ্যাপ্টার ১ এর লিংকঃ https://drive.google.com/file/d/0B6i1IEvpnM6za2ZrSWgwc0liRms/view?usp=drivesdk